সংরক্ষিত নারী আসনে রংপুর অঞ্চল থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি। দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সংগ্রাম ও সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকার কারণে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে এ নিয়ে সন্তোষ ও আলোচনা দেখা দিয়েছে।
রংপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে সুপরিচিত এই নেত্রী চার দশকেরও বেশি সময় ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ছাত্রজীবনে কারমাইকেল কলেজে অধ্যয়নকালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে তার রাজনীতিতে অভিষেক ঘটে। পরবর্তীতে কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে কমনরুম সম্পাদক পদে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে নেতৃত্বের স্বাক্ষর রাখেন।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮৪ সালের হরতাল, ১৯৮৬ সালের সংসদবিরোধী আন্দোলন, ১৯৮৭ সালের ‘হটাও স্বৈরাচার’ কর্মসূচি এবং ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে তার অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। শহর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে জেলা মহিলা দল রংপুরের সাধারণ সম্পাদক, জাসাসের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সহ-সভাপতি, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।
আইনজীবী হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা প্রদানেও তার ভূমিকা প্রশংসিত। আন্দোলন-সংগ্রামে গ্রেফতার নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও সক্রিয় ছিলেন। বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের বিশেষ গ্রেডের সংগীত শিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও ব্যক্তিগত জীবনে চাপের মুখেও তিনি তার আদর্শ থেকে সরে আসেননি।
রংপুরের তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দলের প্রতি অবদানের কারণে অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য যোগ্য প্রার্থী। তার মনোনয়নকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং সংসদে তার কার্যকর ভূমিকার প্রত্যাশা করছেন।