কুমিল্লা জেলার শাসনগাছা–বুড়িচং–ব্রাহ্মণপাড়া আঞ্চলিক সড়কে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ অবশেষে বিস্ফোরণে রূপ নিয়েছে। অবৈধ ‘জি*বি’ নামের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকরা বিক্ষোভ ও ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করেছেন।
শুক্রবার (১ মে) সকাল থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বুড়িচং উপজেলার ভরাসার বাজার এলাকা। বেলা ১১টার দিকে শতাধিক চালক সড়কে অবস্থান নিয়ে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। এতে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
বিক্ষুব্ধ চালকদের অভিযোগ, শাসনগাছা বাস টার্মিনাল এলাকায় প্রতিদিন তিন দফায় তাদের কাছ থেকে ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত জোরপূর্বক আদায় করা হয়। অথচ পুরো টাকা নেওয়া হলেও রশিদ দেওয়া হয় মাত্র ১৫ টাকার।
একজন ক্ষুব্ধ চালক বলেন, “আমরা দিন আনি দিন খাই মানুষ। প্রতিদিন এভাবে টাকা দিলে পরিবার চালানোই কঠিন হয়ে যায়। বহুবার প্রতিবাদ করেছি, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই সড়কে নেমে আসে।
চালকদের হঠাৎ সড়ক অবরোধে শাসনগাছা–বুড়িচং–ব্রাহ্মণপাড়া সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। অফিসগামী মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন। অনেককে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ-কে ফোনে বিষয়টি অবহিত করেন।
মন্ত্রী আশ্বাস দেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং চালকদের ভোগান্তি দূর করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ সময় এমপি হাজী জসিম উদ্দিন বলেন,
“সড়কে কোনো ধরনের অবৈধ চাঁদাবাজি বরদাস্ত করা হবে না। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রশাসনের আশ্বাসে সাময়িকভাবে অবরোধ তুলে নিলেও চালকদের মধ্যে ক্ষোভ এখনো তীব্র। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
স্থানীয় পরিবহন খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই ধরনের অবৈধ চাঁদাবাজি শুধু চালকদের নয়, পুরো জনসাধারণের জন্যই বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপ ছাড়া এ সমস্যা সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।