চামড়াশিল্পের আধুনিকায়ন এবং নগর ও শিল্পবর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে তুরস্কের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে তুরস্কের ইস্তাম্বুল ও শিলেতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, চামড়া শিল্পাঞ্চল ও কারখানা পরিদর্শন করেছেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার এসব পরিদর্শনে প্রযুক্তি, পরিচালন পদ্ধতি, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বিনিয়োগ অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
গত ৪ নভেম্বর ইস্তাম্বুল মেট্রোপলিটন মিউনিসিপ্যালিটির বর্জ্য দহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। সেখানে গৃহস্থালি বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ইস্তাচ পরিচালিত কেন্দ্রটির দৈনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা ৩ হাজার টন। এর স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৮৫ মেগাওয়াট। বাংলাদেশের নগরগুলোয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং ভাগাড়ের ওপর চাপ কমাতে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
একই দিন তুজলায় অবস্থিত ইস্তাম্বুল লেদার অর্গানাইজড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (আইডিওএসবি) পরিদর্শন করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ সময় জোনটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান জেলাল কোপুজসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এর কার্যক্রম ও অর্থনৈতিক অবদান তুলে ধরেন।
পরিদর্শনে পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা, অভিন্ন অবকাঠামো ব্যবহার এবং চামড়া উৎপাদনে কেন্দ্রীয় বর্জ্যপানি শোধন ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের চামড়া শিল্পনগরীগুলোর আধুনিকায়ন, পরিবেশগত মান নিশ্চিত করা এবং উৎপাদন দক্ষতা বাড়াতে এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।
পরে জেভাহির লেদার ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ট্রেড কোম্পানি লিমিটেডের কারখানা পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। সেখানে কাঁচা চামড়া থেকে প্রস্তুত চামড়া তৈরির বিভিন্ন ধাপ, ট্যানিং ও ফিনিশিং প্রযুক্তি এবং জুতা ও অন্যান্য পণ্যে ব্যবহারের উপযোগী চামড়া উৎপাদন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।
এ ছাড়া ৫ নভেম্বর শিলেতে অবস্থিত এনারগ্রম থার্মাল ডিসপোজাল ফ্যাসিলিটি পরিদর্শন করেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী। কেন্দ্রটিতে তাপীয় প্রক্রিয়ায় বিপজ্জনক শিল্পবর্জ্য শোধনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
ইস্তাচের সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কাঠামোর আওতায় নির্মাণ, পরিচালনা ও হস্তান্তর (বিওটি) পদ্ধতিতে কেন্দ্রটি পরিচালনা করছে এনারগ্রম। এর বার্ষিক শিল্পবর্জ্য শোধন সক্ষমতা ৩৩ হাজার টন এবং স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৫ দশমিক ৬ মেগাওয়াট।
পরিদর্শনগুলোতে নগর উন্নয়ন, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও শিল্পের আধুনিকায়নে তুরস্কের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতার সম্ভাবনা উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতির পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনেও ভূমিকা রাখা সম্ভব।
একই সঙ্গে চামড়াশিল্পে কেন্দ্রীয় বর্জ্যপানি শোধন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, উৎপাদন পদ্ধতির উন্নয়ন এবং পণ্যের মূল্য সংযোজন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বিনিয়োগ সহযোগিতার মাধ্যমে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের চামড়াশিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও রপ্তানি বহুমুখীকরণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।