• শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
সত্য ও নিষ্ঠার কলমযোদ্ধা সাংবাদিক মেহেদী হাসান রিয়াদের জন্মদিন আজ পাবনার চাটমোহরে সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজ শিক্ষক নিহত ও একজন আহত রাণীশংকৈলে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের আর্থিক সাক্ষরতা কর্মশালা অনুষ্ঠিত দেবিদ্বারে অবৈধ দুই ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন জালিয়াতি ও প্রতারণা চক্রের ০২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১০ মানিকগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনে সবার প্রিয় তরুনদের পছন্দের প্রার্থী: মাসুদ পারভেজ ঢাকা নাগরিক সমাজের সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত: মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা, মর্যাদা ও কল্যাণ জোরদারে আইওএম-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মালদ্বীপের বাংলাদেশের হাইকমিশনারের বৈঠক পশ্চিমবঙ্গে কে আসছে ক্ষমতায়? একদিনেই বজ্রাঘাতে গেল ১২ প্রাণ

১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ নিখোঁজের জেরে বিক্ষোভে উত্তাল মেক্সিকো

অনলাইন ডেস্ক / / ৬৭ Time View
Update : রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫

মেক্সিকো জুড়ে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। দেশটির বিপুল সংখ্যক গুম হয়ে যাওয়া মানুষের খোঁজে সরকারের জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে তারা এ বিক্ষোভ করছেন।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু ও মানবাধিকারকর্মীরা মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা, কর্দোবা ও অন্যান্য শহরের রাস্তায় নেমে আসেন। তারা ন্যায়বিচারের আহ্বান জানান এবং প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমের সরকারের প্রতি তাঁদের প্রিয়জনদের খুঁজে বের করার অনুরোধ জানান।

মেক্সিকোতে ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ বলে রিপোর্টে উঠে এসেছে। এদের প্রায় সবাই নিখোঁজ হয়েছেন ২০০৭ সালের পর থেকে, যখন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ফেলিপে কালদেরন তাঁর ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’ শুরু করেছিলেন।

অনেক ক্ষেত্রেই নিখোঁজদের জোরপূর্বক মাদক চক্রে নিযুক্ত করা হয়েছে অথবা প্রতিরোধ করায় হত্যা করা হয়েছে।

যদিও মাদকচক্র ও সংগঠিত অপরাধ গোষ্ঠীগুলোকেই মূলত দায়ী করা হয়, তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেও হত্যা ও গুমের অভিযোগ রয়েছে।

যেসব শহর, রাজ্য এবং পৌরসভায় এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেগুলোর বিস্তৃত বিস্তার প্রমাণ করে যে জোরপূর্বক গুমের সমস্যা কীভাবে গোটা মেক্সিকো জুড়ে পরিবার ও সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

দেশের দক্ষিণের ওয়াহাকা রাজ্য থেকে শুরু করে উত্তরের সোনোরা ও দুরাঙ্গো পর্যন্ত—হাজার হাজার কর্মী ও নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনের ছবি নিয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় নেমেছেন, কর্তৃপক্ষ যেন আরও পদক্ষেপ নেয় এই দাবি জানাতে।

মেক্সিকো সিটিতে এই মিছিল রাজধানীর মূল রাস্তা অচল করে দেয়, কারণ বিক্ষোভটি মূল সড়ক দিয়ে অগ্রসর হচ্ছিল।

অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার নিজেরাই গঠন করেছে অনুসন্ধান দল, যাদের বলা হয় “বুসকাদোরেস” (অনুসন্ধানকারী)। এরা উত্তর মেক্সিকোর গ্রামাঞ্চল ও মরুভূমিতে সন্ধান চালায়, অনেক সময় মাদকচক্রের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে। কোথায় গণকবর থাকতে পারে তা খুঁজে বের করতে তারা অনুসন্ধান চালায়।

এই অনুসন্ধান এবং কর্মসূচি চালাতে গিয়ে বুসকাদোরেসদেকে প্রচণ্ড ব্যক্তিগত ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। সম্প্রতি জালিস্কো রাজ্যে একটি সন্দেহভাজন মাদক ফার্ম আবিষ্কারের পর, সেখানে জড়িত কয়েকজন বুসকাদোরেস নিজেরাই নিখোঁজ হয়ে যান।

পরে রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস জানায় যে ওই স্থানে কোনো দাহস্থলের (ক্রেমেটোরিয়াম) প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জাতিসংঘ একে বলেছে, “একটি ভয়াবহ মানবিক ট্র্যাজেডি”।

মেক্সিকোতে নিখোঁজ হওয়া মানুষের সংখ্যা এখন এমন এক মাত্রায় পৌঁছেছে যা লাতিন আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সময়গুলোকেও ছাড়িয়ে গেছে।

গুয়াতেমালার ৩৬ বছরের গৃহযুদ্ধে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়। আর্জেন্টিনায় সামরিক শাসনের অধীনে ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৩ সালের মধ্যে আনুমানিক ৩০ হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়।

সূত্র: বিবিসি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category