কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ৬নং ফতেহাবাদ ইউনিয়নের খলিলপুর থেকে সুলতানপুর পর্যন্ত নতুন সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইটের সুরকি ও অপর্যাপ্ত উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে, যার ফলে কাজের মান নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিস্তারিত ভিডিও তথ্যচিত্রে :- https://youtube.com/shorts/Rs8nxZNxmDQ?si=xxn_yDq07Y_99X0-
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে খলিলপুর থেকে সুলতানপুর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট ভেঙে তৈরি সুরকি ব্যবহার করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে একাধিকবার জানানো হলেও তারা কোনো কর্ণপাত করেননি। এলাকাবাসী আরও জানান, বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বরং পুরনো নিম্নমানের সুরকি অপসারণ বা পরিবর্তন না করেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। খলিলপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুল করিম বলেন, আমরা চাই ভালো মানের রাস্তা হোক। কিন্তু যেভাবে খারাপ ইটের সুরকি দিয়ে কাজ হচ্ছে, এতে কয়েক মাস না যেতেই রাস্তা ভেঙে যাবে। নোয়াবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মোছা. রাশেদা বেগম বলেন, সরকার উন্নয়নের জন্য টাকা দিচ্ছে, আর কিছু অসাধু লোক সেই টাকার অপচয় করছে। আমরা বারবার বাধা দিলেও তারা শুনছে না।
সুলতানপুর গ্রামের মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, রাস্তা নির্মাণের আগে পুরনো সুরকি সরিয়ে ভালো উপকরণ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা না করে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়েই কাজ চালানো হচ্ছে। এতে জনগণের কোনো উপকার হবে না। এ বিষয়ে সচেতন মহলের অভিযোগ, দায়িত্বশীলদের নীরবতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিম্নমানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মানসম্মতভাবে রাস্তা নির্মাণের দাবি জানান তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, এই সড়কটি খলিলপুর ও সুলতানপুর এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। নতুন রাস্তা হলে এলাকাবাসীর চলাচল সহজ হতো।
কিন্তু নিম্নমানের কাজ হলে জনগণের প্রত্যাশা ভেস্তে যাবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা প্রকৌশলীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, জনগণের টাকায় নির্মিত সড়কে কোনো অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। সঠিক তদন্ত করে মানসম্মত কাজ নিশ্চিত না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।