রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় পবিত্র রমজান মাসের পবিত্রতা লঙ্ঘন করে ৯ বছরের এক নাবালিকা শিশুকে ধারাবাহিকভাবে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি কোচিং সেন্টারের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। উপজেলার সুন্দর নাউয়ার কোট গ্রামে অবস্থিত ‘মা ক্যাডেট কোচিং সেন্টার’-এর পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন সাগরের (৩৩) বিরুদ্ধে এই পৈশাচিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার বিবরণ ও মামলার প্রেক্ষাপট ভুক্তভোগী শিশুটির মা শাহিনুর বেগমের দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত রমজান মাসে অভিযুক্ত দেলোয়ারের স্ত্রী বাবার বাড়িতে থাকার সুযোগে এই নারকীয় তাণ্ডব শুরু হয়। কোচিং ছুটির পর ওই নাবালিকাকে প্রলোভন দেখিয়ে ঘরে আটকে রাখতেন দেলোয়ার। এরপর গলায় চাকু ধরে হত্যার হুমকি দিয়ে এবং মুখ চেপে ধরে দিনের পর দিন চলতো এই পাশবিকতা।
সর্বশেষ গত ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ (রবিবার) বিকাল ৪টার দিকে কোচিং ঘর ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে ডেকে নেন দেলোয়ার। সেখানে পুনরায় ধর্ষণের উদ্দেশ্যে স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত ও নির্যাতন শুরু করলে শিশুটির আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় দেলোয়ার। স্থানীয়রা ঘরে ঢুকে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। এই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নম্বর ২৬/২২-০৪-২০২৬)।
উদ্ধারের পর শিশুটি জানায়, পাশবিকতা চালানোর সময় অভিযুক্ত দেলোয়ার বিভিন্ন পিচ্ছিল পদার্থ এবং কন্ডোম ব্যবহার করতো, যাতে কোনো চিহ্ন না থাকে। দীর্ঘ দুই মাস ধরে এই ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে শিশুটি প্রায় নির্বাক হয়ে পড়েছিল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেলোয়ার হোসেন সাগর একজন পেশাদার অপরাধী। এর আগে ২০২২ সালে গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় “মা শিক্ষা নিকেতন কোচিং সেন্টার” পরিচালনার সময় নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে সে র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। ৬ মাস জেল খেটে জামিনে বের হয়ে ২০২৩ সালের দিকে এলাকায় ফিরে আসে এবং পুনরায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এই ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড শুরু করে। স্থানীয়দের দাবি, ইতিপূর্বেও সে এলাকায় একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।
ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও বিশিষ্টজনদের প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় এলাকাবাসী চরম ক্ষুব্ধ হয়ে অবিলম্বে ধর্ষকের ফাঁসি দাবি করেছেন। শিশুটির বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আল্টিমেটাম দিয়েছেন যে, দ্রুত বিচার না হলে তারা রাজপথে কঠোর আন্দোলনে নামবেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম এবং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোস্তফা কামাল বলেন, “দেলোয়ার শিক্ষার আড়ালে বিষ ছড়াচ্ছিল। আমরা তাকে সামাজিকভাবে বয়কট করেছি এবং প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি তদন্তে যেন কোনো ফাঁক না থাকে।”
সুজন (রংপুর): সুশাসনের জন্য নাগরিক-এর জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, “এটি কেবল ধর্ষণ নয়, একটি শিশুর শৈশবকে হত্যা করা। আমরা এই সিরিয়াল রেপিস্টের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
“শিশু বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডাঃ আক্তার বানু বিউটি বলেন, “দীর্ঘ দুই মাস ধরে চলা এই ট্রমায় শিশুটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তার স্বাভাবিক জীবনে ফেরা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।”
পলাতক থাকায় অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন এর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার পিতা মফিজুল ইসলাম বলেন, এসব তার ছেলের কোচিং সেন্টার বন্ধ করার ষড়যন্ত্র। ইতিপূর্বে ধর্ষণের মামলায় কারাবাসের বিষয় প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আগের কথা বাদ দেন। এখনকার ঘটনা মিথ্যা।
মামলা তদন্ত কর্মকর্তা পীরগাছা থানার এস আই সুজন জানিয়েছেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম খন্দকার মহিব্বুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।