• শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
বিয়াম ফাউন্ডেশনের ট্রেনিং কাম ডরমিটরি ভবনের উদ্বোধন: তারেক রহমান  ঠাকুরগাঁওয়ে নিজের পছন্দের ছেলের সাথে বিয়ে না দেওয়ায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা কলেজ ছাত্রীর ‘মা ক্যাডেট কোচিং’ যেন এক নরককুণ্ড! “রংপুরে শিক্ষকের লালসার শিকার ৯ বছরের শিশু” সাইলো মাঠে পতেঙ্গা ন্যাশনাল ক্লাবের ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন বিজিএস ও রানার্স আপ- ফ্রেন্ডস ফর এভার দল রাজধানীর পুরান ঢাকায় সাংবাদিক মোস্তাকের মায়ের কুলখানি অনুষ্ঠিত  মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের সভাপতি সফিকুল, সম্পাদক সুমন, সাংগঠনিক সাগর নির্বাচিত একাধিক মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকা সত্ত্বেও অপরাধ কর্মকাণ্ড অব্যাহত  সঙ্গীত কলেজে শিক্ষক বিতর্ক, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেবিদ্বারে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নারীদের অহংকার এ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা; রাজপথ পেরিয়ে মাননীয় সংসদ সদস্যের দিকে

বিয়াম ফাউন্ডেশনের ট্রেনিং কাম ডরমিটরি ভবনের উদ্বোধন: তারেক রহমান 

নিজস্ব প্রতিবেদক | / ২৬ Time View
Update : শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব এ্যাডমিনিস্ট্রেশন এ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ফাউন্ডেশন -বিয়াম। ১৯৯১ সালের ২৯ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু হয়েছিল। এরপর ২০০২ সালের নভেম্বর মাসে এটি বিয়াম ফাউন্ডেশনে রূপান্তরিত হয়। আজ সেই ফাউন্ডেশনের ট্রেনিং কাম ডরমিটরি ভবনের উদ্বোধন। বিয়ামের প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত অগ্রযাত্রার দিন তারিখগুলো প্রমান করে দেশ এবং জনগণের স্বার্থে বিএনপি সরকার বরাবরই একটি সুদক্ষ ও প্রশিক্ষিত জন-প্রশাসন দেখতে চেয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দেখতে চায়। সুতরাং, আজ বিয়াম ফাউন্ডেশনের ট্রেনিং কাম ডরমিটরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কেবল একটি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন নয় বরং এটি প্রশাসনিক সক্ষমতার উন্নয়ন, প্রশাসনিক নেতৃত্ব গঠন এবং মানবসম্পদ বিকাশের একটি দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

বিয়াম দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। আজ যে ট্রেনিং কাম ডরমিটরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হচ্ছে, তা ভবিষ্যতের প্রশাসনিক নেতৃত্ব গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই ভবন শুধু একটি অবকাঠামো নয়; এটি হয়ে উঠুক জ্ঞানচর্চা, নেতৃত্ব বিকাশ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি প্রাণবন্ত কেন্দ্র।
দক্ষ মানব সম্পদ তৈরী বিয়ামের অন্যতম একটি লক্ষ্য।

বিশেষ করে সরকারি কর্মে নিয়োজিত মানবসম্পদকে আধুনিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারে সক্ষম করে গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার মেধানির্ভর, আত্মবিশ্বাসী, সৃজনশীল ও দায়িত্ববান মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে মেধাভিত্তিক, স্বচ্ছ, দক্ষ ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণ নিজেরা সরাসরি ভোট দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত করেছে।দীর্ঘদিন ধরে একটি জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী শাসন ব্যবস্থার প্রত্যাশায় থাকা সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে বর্তমান সরকার। ২০২৪ এর জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে এই রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। সুতরাং , জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা হিসেবে, রাষ্ট্রের মালিক জনগণের স্বার্থ এবং কল্যাণ নিশ্চিত করা আপনাদের প্রধান দায়িত্ব।

আমি আশা করি, বিয়ামে’র কারিকুলাম এবং প্রশিক্ষণ পরিবেশ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাকে আরও সমৃদ্ধ করবে। আধুনিক প্রশাসনে দক্ষতা মানে শুধু নিয়ম জানা নয়; বরং প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্য বিশ্লেষণ,দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জনসেবায় সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি। সেই লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও ফলাফলমুখী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। মৌলিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি উন্নত কোর্স, গবেষণা এবং নীতিনির্ধারণমূলক শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আপনারা যথাযথভাবে সেই দায়িত্ব পালন করতে পেরেছিলেন কিনা কিংবা পালন করতে সক্ষম ছিলেন কিনা এই মুহূর্তে সেই প্রশ্ন না তুলে আমি আপনাদেরকে এই মুহূর্তে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষ থেকে একটি বার্তা দিতে চাই, দেশ এবং জনগণের কাছে আমরা যেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছি এসব স্রেফ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয় বরং জনগণের সঙ্গে করা আমাদের চুক্তি। জনগণ আমাদের ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে। সুতরাং, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা, প্রতিটি অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে সরকার ‘বদ্ধপরিকর।

আমি আশা করি আপনারা আপনাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে জনগণের কাছে দেয়া সরকারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি, দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে ভূমিকা রাখবেন।

জনগণ আমাদের ওপর যে আস্থা রেখেছে, সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করতে হলে প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নৈতিকতার দৃঢ় চর্চা নিশ্চিত করতে হবে।

আপনারা রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তরে অবস্থান করছেন। আপনারা যে দায়িত্ব পালন করেন, তা কেবল নথিপত্র পরিচালনা বা প্রশাসনিক তদারকির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আপনারা রাষ্ট্রযন্ত্রের কার্যকারিতা, ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতার প্রধান ভিত্তি। একটি শক্তিশালী, জবাবদিহিমূলক, আইনসম্মত এবং জনবান্ধব রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আপনারাই হচ্ছেন সেই মূল চালিকাশক্তি যাদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা, নৈতিক দৃঢ়তা ও প্রশাসনিক প্রজ্ঞার ওপর একটি জাতির উন্নয়ন নির্ভর করে। আপনাদের প্রতিটি সিদ্ধান্তের প্রভাব কখনো একটি পরিবারে, কখনো একটি অঞ্চলে, কিংবা কখনো পুরো জাতির ওপর পড়ে। সেই কারণে আপনাদের দায়িত্ব স্রেফ প্রশাসনিক নয় বরং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব।

বর্তমান সরকার ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাষ্ট্রযন্ত্রে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতাই হবে প্রধান বিবেচ্য। স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সাথে শূন্য পদে সরকারি কর্মচারী নিয়োগ, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠন, শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন এবং বেসরকারি সার্ভিস রুলস প্রণয়নসহ সর্বত্র প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

বিশ্ব এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যুগে প্রবেশ করেছে। সুতরাং, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদেরকেও সময়ের সঙ্গে মোকাবেলায় নিজেদেরকে প্রস্তুত রাখা জরুরি। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের প্রশাসনকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক করে তুলবে।
আমাদের লক্ষ্য, ভবিষ্যতে সকল সরকারি সেবা তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। এক্ষেত্রে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিয়ামের কার্যক্রমকে আরো শক্তিশালী করতে সরকার বিয়ামকে আরো যেকোনো প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত।

প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব-ব্যবস্থায় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং সহজীকরণে সিঙ্গেল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স, ওয়ান স্টপ সার্ভিস প্রতিষ্ঠা এবং সম্পূর্ণ ডিজিটাল কর্মপ্রবাহ তৈরি করে আধুনিক বিশ্বের উপযোগী করে সরকারি কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন।
আমাদের উন্নয়ন দৃষ্টিভঙ্গি হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই এবং মানবিক। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে উন্নয়নের সুফল সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছাবে, বৈষম্য কমে আসবে এবং একপর্যায়ে সম্পূর্ণ দূরীভূত হবে। নারী ও যুবসমাজ উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতা আমাদের প্রতিটি নীতির অংশ হবে।

আপনারা জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাগণ সরকারের নীতিনির্ধারণ এবং নীতি বাস্তবায়নের মধ্যে সেতুবন্ধন।আপনাদের সততা, কর্মদক্ষতা এবং দায়বদ্ধতাই সরকারের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি। আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান নিজেদের শুধু প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে নয়, বরং জনগণের সেবক হিসেবে ভাবুন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category