লেখক – শিল্পী আক্তার |বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির অগ্রগতিতে মানুষের জীবন অনেক সহজ হয়েছে। মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং স্বল্প দৈর্ঘ্যের ভিডিও মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বড় অংশ দখল করে নিয়েছে।
কিন্তু এই পরিবর্তনের মাঝে ধীরে ধীরে বই পড়ার অভ্যাস কমে যাচ্ছে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে। একসময় যেখানে বই ছিল জ্ঞান ও বিনোদনের প্রধান মাধ্যম, এখন সেখানে মোবাইল স্ক্রিন জায়গা দখল করেছে।
যুবসমাজের বই থেকে দূরে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো অতিরিক্ত ডিজিটাল নির্ভরতা। অনেক তরুণ ঘণ্টার পর ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটালেও বই পড়ার জন্য কয়েক মিনিট সময় বের করতে পারে না। দ্রুত বিনোদনের প্রতি আসক্তি মানুষের ধৈর্য কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে দীর্ঘ সময় মনোযোগ দিয়ে বই পড়ার অভ্যাস হারিয়ে যাচ্ছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো পরিবার ও সমাজে পাঠাভ্যাসের পরিবেশ কমে যাওয়া। আগে পরিবারে পত্রিকা পড়া, গল্পের বই পড়া বা লাইব্রেরিতে যাওয়ার সংস্কৃতি ছিল। বর্তমানে অনেক পরিবারেই শিশুদের হাতে ছোটবেলা থেকেই মোবাইল তুলে দেওয়া হচ্ছে। এতে বইয়ের সাথে তাদের সম্পর্ক তৈরি হওয়ার সুযোগ কমে যাচ্ছে।
শিক্ষাব্যবস্থাও একটি বড় কারণ। অনেক শিক্ষার্থী বই পড়ে জ্ঞান অর্জনের চেয়ে শুধু পরীক্ষায় পাস করার জন্য পড়াশোনা করে। ফলে সৃজনশীল ও আনন্দময় পাঠাভ্যাস তৈরি হয় না। শিক্ষা যখন শুধু নম্বরকেন্দ্রিক হয়ে যায়, তখন বইয়ের প্রতি ভালোবাসা কমে যায়।
তবে এই পরিস্থিতি পরিবর্তন করা সম্ভব। পরিবারে বই পড়ার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠচক্র, বইমেলা ও সাহিত্যচর্চা বাড়াতে হবে। তরুণদের কাছে বইকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে হবে। প্রযুক্তিকে পুরোপুরি বাদ না দিয়ে বই পড়ার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে, যেমন ই-বুক বা অডিওবুক।
একটি সচেতন ও চিন্তাশীল সমাজ গঠনে বই পড়ার বিকল্প নেই। বই মানুষকে শুধু তথ্য দেয় না, চিন্তা করতে শেখায়, মূল্যবোধ তৈরি করে এবং মনকে সমৃদ্ধ করে। তাই যুবসমাজকে আবার বইয়ের জগতে ফিরিয়ে আনা সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।