দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় যুক্ত হলো নতুন দুটি মাইলফলক। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দেশের মানুষের গড় মাথাপিছু আয় তিন হাজার মার্কিন ডলার এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ৫০০ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অর্থনীতির এই দুই প্রধান সূচকেই নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে।
আজ বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জিডিপি ও মাথাপিছু আয়ের সাময়িক হিসাব প্রকাশ করেছে।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মানুষের বার্ষিক গড় মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২০ মার্কিন ডলারে। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকা। এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৭৬৯ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ২৫১ ডলার।
পাশাপাশি চলতি মূল্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির (জিডিপি) আকার ৪৫ বিলিয়ন ডলার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০১ বিলিয়ন ডলারে। উল্লেখ্য, বর্তমান বিএনপি সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারে উন্নীত করার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছিল। চলতি অর্থবছরের এই অর্জনের মাধ্যমে সেই লক্ষ্যের ঠিক অর্ধেক পথ পাড়ি দিল বাংলাদেশ।
বিবিএসের সাময়িক হিসাব বলছে, গণ-অভ্যুত্থানের বছর (২০২৪-২৫) অর্থনৈতিক স্থবিরতায় জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমেছিল। তবে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে তা কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশে পৌঁছেছে। খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবার কৃষি ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা মন্থর ছিল।
তবে অর্থনীতির আকার ও প্রবৃদ্ধি বাড়লেও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছুটা মন্দাভাব দেখা গেছে। জিডিপির অনুপাতে সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাতের বিনিয়োগই আগের চেয়ে কমেছে। এর মধ্যে বেসরকারি বিনিয়োগের অনুপাত নেমে এসেছে ২১ দশমিক ৫৩ শতাংশে, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সামষ্টিক অর্থনীতির এই রেকর্ড ইতিবাচক হলেও বেসরকারি বিনিয়োগের এই পতন কর্মসংস্থান ও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।