নাটোরের লালপুরে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দূরত্ব ঘুচিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে আবারও সক্রিয় হতে চান সাত স্থানীয় নেতা ও তাঁদের সঙ্গে থাকা প্রায় ৪০০ নেতাকর্মী। বিএনপিতে ফিরে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে দলের নীতিনির্ধারকদের পাশাপাশি সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের অনুমতি চেয়েছেন তাঁরা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের এমআর মোড়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁরা বিএনপির রাজনীতিতে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নেতাকর্মীরা।
বিএনপিতে ফিরতে আগ্রহী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন দুড়দুড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক নেতা মো. আলী আজম, লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ, দুড়দুড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য হাফিজুল ইসলাম এবং নাটোর জেলা ছাত্রদলের সদস্য মান্নাফ হোসেন। এ ছাড়া ইউনিয়ন যুবদলের নেতাকর্মী সুরুজ ও নাসিরসহ অন্যরা তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কৃত তাইফুল ইসলাম টিপুর সঙ্গে রাজনীতি করার কারণে এসব নেতাকর্মীর একটি অংশ দীর্ঘদিন দলীয় রাজনীতির মূলধারা থেকে দূরে ছিলেন। বর্তমানে তাঁরা আবারও বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হয়ে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীরা বিএনপির রাজনীতিতে ফিরে এসে কাজ করার প্রত্যয় জানান। একই সঙ্গে দলের নীতিনির্ধারকদের কাছে পুনরায় দলীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করেন। পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের নেতৃত্বে এলাকার উন্নয়ন ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন তাঁরা।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তাঁদের এই উদ্যোগকে দলীয় ঐক্য জোরদারের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন রাজনৈতিকভাবে দূরে থাকা নেতাকর্মীরা আবারও একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেলে দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নসহ লালপুরের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসতে পারে।
তবে নেতাকর্মীদের বিএনপিতে পুনরায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারক কিংবা প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা সম্মতির তথ্য পাওয়া যায়নি।