• শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
লালপুরে বিএনপিতে ফিরতে চান ৪০০ নেতাকর্মী, নীতিনির্ধারকদের অনুমতি চাইলেন ৭ নেতা সড়কের উন্নয়ন কাজ তদারকিতে এলাকাবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী দুর্নীতি প্রতিরোধে লটারি পদ্ধতি হতে পারে কার্যকর উদ্যোগ রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে দোকান বসালেই মামলা: ডিএসসিসি প্রশাসক প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর সামনে রেখে ঢাকা-নারিতা রুটে বিমানের ফ্লাইট দ্বিগুণ ভানুয়াতুর উপকূলে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি তাসমানিয়ায় ফুটবল কোচের বিরুদ্ধে তিনটি ধর্ষণের অভিযোগ, ক্লাব সভাপতির পদত্যাগ মাঝ আকাশে দুই বিমানের ভয়াবহ সংঘর্ষ, অতঃপর… কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাত রয়েছে: রিজভী ইমাম ও আলেমদের জন্য রক্ত দিতেও দ্বিধা করব না: ধর্মমন্ত্রী

শুধু পণ্য নয়, এবার প্রযুক্তি ও শিল্পজ্ঞান রপ্তানি করতে চায় চীন

অনলাইন ডেস্ক / ২৩ Time View
Update : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

চার দশক ধরে সস্তা উৎপাদন, বিশাল শিল্পভিত্তি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর ভর করে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে চীন। কিন্তু বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক বাণিজ্যের বাস্তবতা। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি, সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি এবং বিভিন্ন দেশের নিজস্ব শিল্প গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা বেইজিংয়ের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এ পরিস্থিতিতে শুধু তৈরি পণ্য রপ্তানি নয়, অন্য দেশে কারখানা স্থাপন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং উৎপাদনসংক্রান্ত দক্ষতা ছড়িয়ে দেওয়াই হয়ে উঠতে পারে চীনের অর্থনৈতিক বিকাশের পরবর্তী অধ্যায়।

বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের উত্থান, এবার নতুন সমীকরণ
গত চার দশকে চীনের অর্থনৈতিক উত্থানের পেছনে ছিল একটি কার্যকর বৈশ্বিক বিনিময়ব্যবস্থা। চীন সরবরাহ করেছে বিপুল শ্রমশক্তি, উৎপাদন সক্ষমতা ও বিস্তৃত শিল্প অবকাঠামো। বিনিময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছে পুঁজি, প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা এবং বিশাল বাজার।

এই সহযোগিতার ফলে চীন যেমন শিল্পোন্নয়নের গতি বাড়িয়েছে, তেমনি বিশ্বের ভোক্তারাও পেয়েছেন তুলনামূলক কম দামে নানা ধরনের পণ্য। ইলেকট্রনিকস থেকে শুরু করে যন্ত্রপাতি—বিভিন্ন শিল্পে চীনের উৎপাদন সক্ষমতা বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

তবে এই মডেল এখন নতুন চাপের মুখে। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের উৎপাদনব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে বলে পরিবর্তন প্রয়োজন হচ্ছে না; বরং এর সাফল্য এতটাই বিস্তৃত হয়েছে যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একে নতুনভাবে সাজানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে চীন ও বিশ্বের অর্থনৈতিক সম্পর্ক তাই আগের তুলনায় ভিন্ন রূপ নিতে পারে।

শুল্কযুদ্ধ ও ‘চায়না প্লাস ওয়ান’ কৌশল
গত কয়েক বছরে চীনের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুল্ক আরোপের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রযুক্তি ও পণ্যের রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণও জোরদার করা হয়েছে। একই সময়ে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো চীনের ওপর একক নির্ভরতা কমাতে অন্য দেশেও উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তুলছে। এই কৌশল পরিচিত ‘চায়না প্লাস ওয়ান’ নামে।

এর মূল উদ্দেশ্য হলো, চীনে উৎপাদন অব্যাহত রেখেও ভিয়েতনাম, ভারত, ইন্দোনেশিয়া কিংবা অন্য দেশে বিকল্প উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করা। এতে কোনো একটি দেশে সংকট দেখা দিলে সরবরাহব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি কমে।

তবে চাপের মধ্যেও চীনের রপ্তানি শক্তিশালী রয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটির পণ্য বাণিজ্যের উদ্বৃত্ত রেকর্ড ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। রপ্তানি দেশটির অভ্যন্তরীণ চাহিদার দুর্বলতা সামাল দিতেও সহায়তা করছে।

কিন্তু বিপুল রপ্তানি উদ্বৃত্ত একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, চীনের উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক দামের কারণে স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো চাপের মুখে পড়তে পারে। ফলে চীনের বর্তমান অর্থনৈতিক মডেল দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত রাখা কঠিন হয়ে উঠছে।

বিশ্ব এখন শুধু চীনা পণ্য চায় না
চীনের উৎপাদন খাতে আধিপত্য নিয়ে উদ্বেগ এখন আর শুধু যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইউরোপও নিজস্ব শিল্পভিত্তি ও কর্মসংস্থান ধরে রাখার বিষয়ে চিন্তিত। অন্যদিকে, উন্নয়নশীল দেশগুলো চীনের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি থেকে লাভবান হতে চাইলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলছে—এই সম্পর্ক থেকে তাদের নিজেদের শিল্প কতটা শক্তিশালী হচ্ছে?

অনেক দেশ এখন শুধু চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি, সৌর প্যানেল, যন্ত্রপাতি কিংবা রোবট আমদানি করতে আগ্রহী নয়। তারা চায় নিজেদের দেশে কারখানা গড়ে উঠুক, স্থানীয় কর্মীদের দক্ষতা বাড়ুক এবং দেশীয় সরবরাহকারীরা বৈশ্বিক উৎপাদনব্যবস্থার অংশ হওয়ার সুযোগ পাক।

একই সঙ্গে তারা চীনের কাছ থেকে আধুনিক প্রযুক্তি, প্রকৌশলগত জ্ঞান ও উৎপাদনপ্রক্রিয়া শিখতে চায়।

এখানেই চীনের সামনে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। একসময় পশ্চিমা কোম্পানিগুলো অভিযোগ করত, চীনের বাজারে প্রবেশ করতে গিয়ে তাদের প্রযুক্তি হস্তান্তরের চাপ মোকাবিলা করতে হতো। এখন চীনা কোম্পানিগুলোকেও বিদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় উৎপাদন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও দক্ষতা বিনিময়ের প্রত্যাশার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

অর্থাৎ, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে চীনকে শুধু পণ্য সরবরাহকারী হিসেবে নয়, অন্য দেশের শিল্পোন্নয়নের অংশীদার হিসেবেও ভূমিকা রাখতে হতে পারে।

চীনের নতুন শক্তি: পণ্য নয়, উৎপাদন সক্ষমতা
চীনের শিল্পশক্তি এখন আর শুধু তুলনামূলক সস্তা শ্রম বা সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল নয়। কয়েক দশক ধরে গড়ে ওঠা শিল্প অবকাঠামো, দক্ষ কর্মী, প্রকৌশলগত অভিজ্ঞতা, গবেষণা এবং সরবরাহকারীদের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক দেশটির বড় সম্পদ।

এই সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে চীন অন্য দেশগুলোতে শুধু তৈরি পণ্য বিক্রি করার পরিবর্তে কারখানা স্থাপন, যন্ত্রপাতি সরবরাহ, উৎপাদনপ্রক্রিয়া উন্নয়ন এবং স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণেও ভূমিকা রাখতে পারে।

এভাবে পণ্যের পাশাপাশি উৎপাদন সক্ষমতা রপ্তানির একটি নতুন মডেল গড়ে উঠতে পারে। এতে চীনা কোম্পানিগুলো নতুন বাজার পাবে, আর বিনিয়োগ গ্রহণকারী দেশগুলো স্থানীয় শিল্প ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারে।

তবে এ সুফল স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিশ্চিত হবে না। স্থানীয় সরবরাহকারীদের অংশগ্রহণ, প্রযুক্তি শেখার সুযোগ, কর্মসংস্থানের মান এবং বিনিয়োগের প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রভাবের ওপর ফলাফল নির্ভর করবে।

স্মার্টফোন থেকে বৈদ্যুতিক গাড়ি, এক শিল্পের জ্ঞান অন্য শিল্পে
চীনের শিল্পোন্নয়নের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, একটি খাতে অর্জিত প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা অন্য খাতের বিকাশে কাজে লাগানো।

স্মার্টফোন শিল্পে কাজ করতে গিয়ে চীনা কোম্পানিগুলো ব্যাটারি, সেন্সর, সূক্ষ্ম যন্ত্রাংশ ও বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করেছে। পরে এসব সক্ষমতার কিছু অংশ বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরিতে কাজে এসেছে।

বৈদ্যুতিক গাড়ির শিল্প আবার ব্যাটারি, চিপ এবং স্বয়ংক্রিয় উৎপাদনপ্রযুক্তির বিকাশে গতি দিয়েছে। একইভাবে স্বয়ংক্রিয় উৎপাদনব্যবস্থার অগ্রগতি রোবট তৈরির প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিয়েছে।

এ প্রক্রিয়ার পেছনে রয়েছে উৎপাদক, যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী, প্রকৌশলী ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জ্ঞান বিনিময়। ফলে নতুন একটি শিল্পকে প্রতিবার শূন্য থেকে শুরু করতে হয় না; আগের শিল্পে তৈরি দক্ষতা ও অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে দ্রুত এগোনোর সুযোগ তৈরি হয়।

এই অভিজ্ঞতা অন্য দেশগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ব্রাজিল বা ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশ চাইলেই সরকারি নির্দেশে চীনের শেনজেনের মতো শিল্প ও প্রযুক্তিকেন্দ্র তৈরি করতে পারবে না। তবে চীনের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ কাজে লাগিয়ে তাদের উন্নয়নের পথ কিছুটা সংক্ষিপ্ত করার সুযোগ রয়েছে।

ব্রাজিল, হাঙ্গেরি ও ইন্দোনেশিয়ায় চীনের নতুন ভূমিকা
চীনা কোম্পানিগুলোর বিদেশি বিনিয়োগে উৎপাদন ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের প্রবণতা ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে।

ব্রাজিলে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডি স্থানীয় উৎপাদন এবং সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকে এগোচ্ছে। এ ধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে শুধু গাড়ি বিক্রির বাজার নয়, স্থানীয় উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

হাঙ্গেরিতে বিওয়াইডি তাদের ইউরোপীয় যাত্রীবাহী গাড়ির কারখানার পাশাপাশি গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

ইন্দোনেশিয়ায় চীনা বিনিয়োগের মাধ্যমে নিকেল প্রক্রিয়াজাতকরণ, ব্যাটারি উৎপাদন এবং পুনর্ব্যবহারকে ঘিরে সমন্বিত শিল্পব্যবস্থা গড়ে উঠছে। এর ফলে দেশটি কাঁচামাল সরবরাহের বাইরে গিয়ে মূল্য সংযোজনকারী শিল্পে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

তবে এসব উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে স্থানীয় অর্থনীতিতে কতটা মূল্য সংযোজন হচ্ছে, দেশীয় কোম্পানিগুলো সরবরাহব্যবস্থায় কতটা যুক্ত হচ্ছে এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা কতটা স্থানীয়ভাবে গড়ে উঠছে, তার ওপর।

বিশ্বের দেশগুলো যখন একক সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে, তখন বিদেশে উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তোলায় সহায়তা করা চীনের জন্য নতুন বাজার তৈরির পাশাপাশি বাণিজ্যিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখারও কৌশল হতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায়ও একই কৌশল
চীনের নতুন অর্থনৈতিক ভূমিকা শুধু প্রচলিত শিল্পে সীমাবদ্ধ নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্ষেত্রেও প্রযুক্তি তৈরি করার পাশাপাশি তা কতটা বিস্তৃতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের এআই প্রতিযোগিতাকে সাধারণত উন্নত চিপ, কম্পিউটিং সক্ষমতা এবং শক্তিশালী মডেল তৈরির লড়াই হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু এর পাশাপাশি রয়েছে আরেকটি প্রতিযোগিতা—কোন দেশের প্রযুক্তি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষ, প্রতিষ্ঠান ও সফটওয়্যারে ব্যবহৃত হচ্ছে।

চীনা এআই কোম্পানিগুলো তুলনামূলক কম খরচ, উন্মুক্ত মডেল এবং প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। আলিবাবার কিউওয়েন মডেল পরিবার এ প্রবণতার একটি উদাহরণ। এসব মডেল ব্যবহারের সুযোগ বাড়লে বিভিন্ন দেশের ডেভেলপার ও প্রতিষ্ঠান নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তি কাজে লাগাতে পারে।

অবশ্য উন্মুক্ত মডেল মানেই সব প্রযুক্তিগত তথ্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত—এমন নয়। বিভিন্ন মডেলের লাইসেন্স, ব্যবহারের শর্ত এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা আলাদা হতে পারে।

প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়াও হতে পারে অর্থনৈতিক কৌশল
ইতিহাসে দেখা গেছে, বড় অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনা প্রযুক্তি সব সময় সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তিই হয় না। প্রযুক্তিটি কতটা সহজলভ্য, কম খরচে ব্যবহারযোগ্য এবং বিভিন্ন কাজে প্রয়োগ করা যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বের অনেক দেশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর এআই মডেল হতে পারে এমন কোনো মডেল, যা তুলনামূলক কম খরচে ব্যবহার করা যায় এবং স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে উন্মুক্ত প্রযুক্তি নতুন সফটওয়্যার, অ্যাপ্লিকেশন ও ডিজিটাল সেবা তৈরির সুযোগ বাড়াতে পারে।

চীনের জন্যও এ কৌশলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। নিজস্ব প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়বে, তত বেশি প্রতিষ্ঠান চীনা প্রযুক্তিভিত্তিক পণ্য ও সেবা তৈরি করতে পারে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তির পাশাপাশি নতুন ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও বাজারও গড়ে উঠতে পারে।

তবে প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তথ্যনিরাপত্তা, গোপনীয়তা, প্রযুক্তিগত নির্ভরতা এবং বিভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত উদ্বেগও বিবেচনায় নিতে হবে।

২০৫০ সালের চীনের সাফল্য কী দিয়ে মাপা হবে?
১৯৮০-এর দশকে অর্থনৈতিক সংস্কার ও বিদেশি বিনিয়োগের জন্য বাজার উন্মুক্ত করার পর চীনে বিদেশি কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে পুঁজি, প্রযুক্তি, উৎপাদনপ্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা প্রবেশ করে। চীনা শ্রমিক, প্রকৌশলী ও স্থানীয় সরবরাহকারীরা এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ান। একপর্যায়ে দেশটির কোম্পানিগুলো বিদেশি প্রযুক্তি গ্রহণের পাশাপাশি নিজস্ব উদ্ভাবনেও এগিয়ে যায়।

এখন চীন সেই উন্নয়নপ্রক্রিয়ার আরেকটি পর্যায়ে দাঁড়িয়ে। ভবিষ্যতে দেশটির অর্থনৈতিক সাফল্য শুধু কত পণ্য রপ্তানি করছে, বিশ্ব উৎপাদনে কতটা অংশীদার কিংবা এআই প্রযুক্তিতে কতটা অগ্রসর—এসব দিয়ে বিচার করা হবে না।

বরং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, চীন তার শিল্পজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উৎপাদন অভিজ্ঞতা অন্য দেশের সঙ্গে ভাগ করে নিয়ে তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে কতটা ভূমিকা রাখছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং এআই প্রযুক্তির সুফল বিভিন্ন দেশের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। তবে প্রযুক্তি ভাগাভাগির এই ধারণা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে বিনিয়োগের ধরন, প্রযুক্তি ব্যবহারের শর্ত এবং অংশীদার দেশগুলোর নিজস্ব সক্ষমতা তৈরির সুযোগের ওপর।

সব মিলিয়ে, বিশ্বায়নের পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিযোগিতা শুধু কে সবচেয়ে বেশি পণ্য তৈরি করে, তা নিয়ে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। বরং কোন দেশ অন্য দেশগুলোকে উৎপাদন করতে শেখাতে, প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ বাড়াতে এবং নতুন শিল্প গড়ে তুলতে কতটা সহায়তা করতে পারে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category