ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন ও পাল বাজার এলাকায় স্থানীয় এক প্রভাবশালী কৃষক লীগ নেতার বিরুদ্ধে সরকারি খাল দখল, ফসলি জমি কাটা, অবৈধ ড্রেজার বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম মানিক, যিনি এলাকায় প্রভাবশালী ও সুদখোর মানিক হিসেবে পরিচিত। এই সিন্ডিকেটে ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) মোঃ হেলাল এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা দুলাল মিয়ার নামও জড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে স্থানীয় ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী এই আওয়ামী লীগের দোসর মানিক মিয়াকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য জেলা পুলিশ সুপারের (SP) জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ওমান প্রবাসী বাবুলের বাড়ির পাশে মোমেন মিয়া নামের এক ব্যক্তির একটি অবৈধ ড্রেজার পরিচালনাকে কেন্দ্র করে এই বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেনের ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে ইব্রাহিমপুর এলাকার স্থানীয় বিএনপি নেতা মোঃ দুলাল মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “মোমেন মিয়ার অবৈধ ড্রেজারটি যেন কোনো সমস্যায় না পড়ে, সেজন্য কৃষক লীগ নেতা মানিক ও নায়েব হেলাল ২ লাখ টাকা নিয়েছেন।”
টাকা লেনদেনের বিষয়ে ড্রেজার মালিক মোমেন মিয়ার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মানিক মিয়া আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রথমে ২ লাখ টাকা নেয়। ওই টাকা লেনদেনের পর ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) হেলাল আমাকে দুই আঙুল দেখিয়ে ইশারা করেন যে তিনি টাকা পেয়েছেন। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও আমি শান্তিতে কাজ করতে পারিনি। অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণ ও সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসনকে জানালে প্রশাসন এসে ৩ বার আমার ড্রেজার ভাঙচুর করে। এতে আমার প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।”
মোমেন মিয়া আরও অভিযোগ করেন, “ড্রেজার ভাঙচুরের পর সমস্যা সমাধানের কথা বলে মানিক ও বিএনপি নেতা দুলাল আরও দুই দফায় আমার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়। এর মধ্যে বিএনপি নেতা দুলাল নেন ২৮ হাজার টাকা এবং মানিক তিনবারে নেন আরও ১ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তারা আমার কাছ থেকে ৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা ঘুষ নিলেও আমার কোনো উপকার হয়নি। ড্রেজার ভাঙচুর ও ঘুষসহ সর্বমোট ৬ লাখ ২৮ হাজার টাকা খুইয়েও আমি মানিক গংদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছি না।”
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই মানিক অবৈধভাবে জমি ও সরকারি খাল দখল এবং সুদের ব্যবসা করে কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার অন্যতম সহযোগী ইব্রাহিমপুরের সাবেক চেয়ারম্যান মুসা বর্তমানে কারাগারে থাকলেও, মানিক এখনো বহাল তবিয়তে আছেন। তিনি এখন স্থানীয় বিএনপি নেতা দুলাল মিয়ার সাথে আতাঁত করে এলাকায় লুটপাট ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে যাচ্ছেন। এর আগে খালের বেকু (ভেকু) দিয়ে শওকত মাস্টার নামের এক শিক্ষকের ফসলি কৃষি জমি জোরপূর্বক কেটে নেওয়ার ঘটনাও ঘটিয়েছেন তিনি।
এই বিষয়ে কবির আহাম্মদ নামের অপর এক ভুক্তভোগী বলেন, “এই সুদখোর মানিকের অত্যাচার ও চাঁদাবাজিতে পুরো গ্রামের মানুষ আজ অতিষ্ঠ। রাজনৈতিক খোলস বদলে সে এলাকায় এক ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে। আমরা দ্রুত এর বিচার চাই।”
এদিকে স্থানীয় ভুক্তভোগী জনসাধারণের তীব্র দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী এই আওয়ামী লীগের দোসর মানিক মিয়াকে যেন পুলিশ প্রশাসন অতি দ্রুত আইনের আওতায় আনে। এ বিষয়ে তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে তদন্ত সাপেক্ষে তাকে গ্রেফতারের জোর দাবি জানিয়েছেন।