মিঠাপুকুরের চাঁদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শ্রেণিকক্ষে ফাটল, বারান্দায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান শ্রেণিকক্ষে দেখা দিয়েছে ফাটল। যেকোনো সময়কে মাথার ওপর ছাদ ধ্বসে পড়ে শিক্ষার্থীদের প্রাণহানীর মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। এ কারণে সাত মাস আগেই ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবত চিহ্নিত করে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছিল গণপূর্ণ অধিদপ্তর। কিন্তু, নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় ওই পরিত্যক্ত ভবনের বারান্দায়ই ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চালাতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। এমনই এক নিদারুণ চিত্র দেখা গেছে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার চাঁদপাড়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
উপজেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের অঝোপাড়া বুজরুক সন্তোষপুর গ্রামের চাঁদপাড়ায় অবস্থিত ‘চাঁদপাড়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি’। সরেজমিনে গিয়ে সেখানে দেখা যায়, ৪টি কক্ষ বিশিষ্ট একটি একতলা ভবন। ভবনের একটি কক্ষ শিক্ষকদের জন্য। অন্য ৩টি শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২০০২ সালের দিকে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
কিন্তু, দীর্ঘদিনেও সংস্কার না হওয়ায় ভবনটির ছাদ ধীরে ধীরে পলেস্তারা, সুরকি ও রড ক্ষয় যেতে থাকে। এক পর্যায়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়ে ছাদের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরে। তারপরও জীবনের ঝুঁকি পাঠদান অব্যাহত রাখেন শিক্ষকরা। সম্প্রতি, তা আরও বিস্তৃতি হয়। এক বছর আগে বড় বড় ফাটল তৈরী হলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নতুন ভবন নির্মাণের আবেদন জানিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের অক্টোবরে মিঠাপুকুর উপজেলা শিক্ষা বিভাগ ও রংপুর থেকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের লোকজন এসে পরিদর্শন করেন এবং বিদ্যালয় ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেন। ওই সময় বারান্দায় বেঞ্চ বসানো হয়। শিশু থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত সকালে এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিকেলে দুই শিফটে পালাক্রমে পাঠদান করে আসছেন শিক্ষকরা। এরই মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। একদিকে, ভেতরে ফাটলরে কারণে ঝুঁকি, অন্যদিকে বাইরে বৃষ্টি আর বজ্রপাত। এর মধ্যেই দুই শতাধীক শিক্ষার্থীর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বারান্দায় চলছে পাঠদান। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুমতাহিনা, সামির, ইসামাইল, মিম বলে, ‘আমাদেরকে খুব ভয় লাগে। কখন যে ছাদ ভেঙ্গে পড়ে। বারান্দায় ক্লাশ করতেও ভয় পাই। বড়-বৃষ্টি বজ্রপাত হয়।’ একই কথা বলে, তৃতীয় শ্রেণির মোহাল্লিল, ফারহান মিয়া, নুশরাত, চতুর্থ শ্রেণির রোমান, মিথিলা ও আব্দুল্যাহও।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনজুমান আরা ও জ্যেষ্ট সহকারী শিক্ষক ছায়ফুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যালয়টি ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। জাতীয়করণ হয় ২০১৩ সালে। ভবন নির্মাণ হয়েছিল ২০০২ সালে। কোনো সংস্কার না হওয়ার কারণে ভবনটির সবগুলো শ্রেণিকক্ষের ছাদে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি হলে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। বাচ্চাদেরকে রুমের ভেতরে বসিয়ে ক্লাশ নিতে পারিনা। তাই, বারান্দায় ক্লাশ নিতে হচ্ছে। আমরা দ্রæত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।’
দাতা সদস্য আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘বিদ্যালয়ের ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোনো সময় ধ্বসে পড়ে প্রাণহানী ঘটতে পারে। তাই, একটি নতুন ভবনের বরাদ্দ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাই।’
মিঠাপুকুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার নিখিল চন্দ্র রায় সমকালকে বলেন, ‘আমি চাঁদপাড়া আদর্শ সরকারি বিদ্যালয়ের ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়েছি। সেখানে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষকরা পাঠদান করাচ্ছেন। আমি নতুন ভবন বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। আশা করি দ্রæত বরাদ্দ আসবে। তথকন সেখানে ভবন নির্মাণ হলে সমস্যা লাঘব হবে। এখন কোমলমতি শিশুদেরকে কোনো নিরাপদ স্থানে পাঠদানের জন্য পরামর্শ দিয়েছি।’