দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তুতি চলছে। এরই অংশ হিসেবে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশের ৫১টি অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা প্রকাশ করেছে দেশটির ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস)।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকায় অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোর নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়েবসাইটের ‘অ্যাক্রেডিটেড মেডিকেল সেন্টার’ বিভাগে এসব প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
ঢাকার যেসব এলাকায় রয়েছে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার
তালিকা অনুযায়ী, রাজধানীর মতিঝিল, ফকিরাপুল, পুরানা পল্টন, নয়াপল্টন, বিজয়নগর, বনশ্রী, রামপুরা, বনানী, উত্তরা, ধানমন্ডি, মগবাজার, কাকরাইল, মহাখালী, তেজগাঁও, বসুন্ধরা, বাড্ডা ও ইস্কাটনসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব মেডিকেল সেন্টার রয়েছে।
অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে মতিঝিলের এশিয়া ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল সেন্টার, মেডিনেট মেডিকেল সার্ভিসেস ও রামিন হেলথ সেন্টার। ফকিরাপুলে রয়েছে ওয়াদি হেলথ চেকআপ ও মেডিফ্লাই হেলথ সার্ভিসেস।
পুরানা পল্টনে রয়েছে ইবনে ওমর মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ইউনিটি মেডিকেল চেকআপ সেন্টার, এ এফ মেডিকেল সেন্টার, স্টার মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক, আনাস মেডিকেল সেন্টার ও আল-জামী ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
নয়াপল্টনে রয়েছে আইডিয়াল ডায়াগনস্টিক, সানলাইট ডায়াগনস্টিক, রিলায়েন্স ল্যাব, প্রাইম ডায়াগনস্টিক, হিউম্যান ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল সেন্টার এবং ওয়ান প্লাস মেডিকেল সেন্টার। বিজয়নগরে রয়েছে পারফেক্ট মেডিকেয়ার ও কমফোর্ট মেডিকেল চেকআপ সেন্টার।
এ ছাড়া বনশ্রীর ফেমাস স্পেশালাইজড হাসপাতাল, রামপুরার লিডিং হেলথ চেকআপ লিমিটেড ও ডায়নামিক ল্যাব এবং পশ্চিম রামপুরার ডেল্টা হেলথ কেয়ার ও পিওর হেলথ মেডিকেল সেন্টার তালিকায় রয়েছে।
বনানীতে গ্লোবাল মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সারা মেডিকেল সেন্টার ও সারা হেলথ কেয়ার রয়েছে। কাকলীতে রয়েছে পুষ্প ক্লিনিক এবং চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় এলবি হেলথকেয়ার ও সানমুন মেডিকেল সেন্টার।
উত্তরার দক্ষিণখানে জান্নাহ মেডিকেল সার্ভিসেস, সেক্টর-৪-এ মাইল্যাব মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং আব্দুল্লাহপুরে আইচি হাসপাতাল অনুমোদন পেয়েছে। গাজীপুরে রয়েছে শাহিদা খাতুন ডিজিটাল মেডিকেল সেন্টার।
ধানমন্ডি ও আশপাশের এলাকায় রয়েছে গ্রিন রোডের ল্যাব সায়েন্স ডায়াগনস্টিক, ক্যান্টনমেন্টের মানিকদীতে ইশতিয়াক মেডিকেল সেন্টার ও মাটিকাটায় মেডিপ্যাথ মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। কাফরুলে রয়েছে স্মার্ট মেডিকেল সেন্টার।
এ ছাড়া নিউ ইস্কাটনে ইউনিকেয়ার মেডিকেল সার্ভিসেস, মগবাজারে গ্রিনল্যান্ড মেডিকেল সেন্টার, কাকরাইলে কেয়ার ওয়েভ, মহাখালীতে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল, তেজগাঁওয়ে জারা হেলথ কেয়ার এবং এভারগ্রিন মেডিকেল সেন্টার অনুমোদিত তালিকায় রয়েছে।
তালিকায় আরও রয়েছে তেজগাঁওয়ের ওয়ার্ল্ড হরাইজন মেডিকেল সার্ভিসেস, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সুরক্ষা মেডিকেল সেন্টার, উত্তর বাড্ডার ল্যাব কোয়েস্ট লিমিটেড, মাদানি অ্যাভিনিউয়ের স্ট্যান্ডার্ড মেডিকেল সেন্টার এবং ক্যান্টনমেন্টের মানিকদীতে ট্রু হেলথ মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক, ফি সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা
এফডব্লিউসিএমএসের তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত মেডিকেল সেন্টারগুলো স্থানীয় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার নিবন্ধিত। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার কোম্পানি বেস্টিনেট এসডিএন বিএইচডির প্রয়োজনীয় অডিট প্রক্রিয়ায় উত্তীর্ণ হয়েছে এসব প্রতিষ্ঠান।
মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের ইলেকট্রনিক ভিসা উইথ রেফারেন্স (ই-ভিডিআর) আবেদনের প্রক্রিয়ায় এগোনোর আগে নির্ধারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।
এদিকে সরকার মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফি সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে। অতিরিক্ত ফি আদায় কিংবা চাকরিপ্রার্থীদের হয়রানি না করার বিষয়ে মেডিকেল সেন্টারগুলোকে সতর্ক করেছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
মেডিকেল অনুমোদন দ্রুত করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করতে মেডিকেল অনুমোদন দ্রুত করার দাবি জানিয়ে আসছেন রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সভায় ৬২টি রিক্রুটিং এজেন্সির পক্ষে বক্তব্য দেন মোহাম্মদ ফজলুল ইসলাম ইয়াসিন।
তিনি মেডিকেল অনুমোদন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) জন্য যৌক্তিক প্রসেসিং ফি নির্ধারণের আহ্বান জানান।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রস্তুতির মধ্যে ৫১টি মেডিকেল সেন্টারের অনুমোদনকে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।