তারা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর কাছ থেকে যন্ত্রণাদায়ক জবাব পেয়েছে
অনলাইন ডেস্ক /
/ ৮৫
Time View
Update :
শুক্রবার, ২৭ জুন, ২০২৫
Share
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আব্দুররহিম মুসাভি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর ‘ইরানের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে’ এবং উভয় শত্রুকে কঠোর নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছিল, কিন্তু তারা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর কাছ থেকে যন্ত্রণাদায়ক জবাব পেয়েছে।’
তিনি জানান, ইসরায়েলি মিডিয়ায় সেন্সরশিপ চললেও, প্রাপ্ত তথ্য প্রমাণ করে যে তাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও গবেষণা স্থাপনাগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
মুসাভি বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছি, এখনো বলছি—ইরান কখনো যুদ্ধ শুরু করে না, কিন্তু কেউ হামলা করলে, যুদ্ধ শেষ করে ইরানই।’
তিনি দাবি করেন, ‘যুদ্ধের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো’র গোয়েন্দা, সরবরাহ ও অপারেশনাল সহায়তা ছিল। কিন্তু ইরান নিজের শক্তি দিয়েই শত্রুর যুদ্ধযন্ত্র থামিয়ে দিয়েছে।’
তিনি জানান, ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সামনে ইসরায়েলের বহুস্তর বিশিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ছিল নিরুপায়। অধিকৃত ফিলিস্তিনের বাসিন্দারা আশ্রয়কেন্দ্রেও নিরাপদ ছিল না।
মুসাভি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে রক্ষার জন্য ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা করেছিল, কিন্তু আমাদের পাল্টা আঘাতে কাতারে অবস্থিত আল-উদেইদ ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’
তিনি দাবি করেন, এই হামলার পরই ‘যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থামানোর অনুরোধ জানাতে শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের শর্ত মেনে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।’
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যারা আবার কৌশলগত ভুল করবে, তাদের ইতিহাসের অন্ধকার গহ্বরে ঠেলে দেওয়া হবে। আমরা আমাদের শত্রুদের প্রতিটি পদক্ষেপ গভীর নজরে রাখছি।’
উল্লেখ্য, ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এতে শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা, বিজ্ঞানীসহ শতাধিক মানুষ নিহত হন। এর জবাবে ইরান তীব্র প্রতিশোধমূলক হামলা চালায় ইসরায়েলে, পরে যুক্তরাষ্ট্র তিনটি ইরানি পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালায়।
ইরানের পাল্টা হামলায় কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়। পরে বিভিন্ন দেশের সমালোচনার মুখে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানায় এবং ২৪ জুন যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে থেমে যায়।