দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বা নীতিবিরোধী কাজের কারণে বহিষ্কৃত নেতারা দলের নাম, পদ বা প্রতীক ব্যবহার করতে পারেন না। বহিষ্কারের পর তারা প্রাথমিক সদস্যপদ হারান এবং কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিতে বা পদ নবায়ন করতে পারেন না। তবে, বর্তমানে তিতাসে বহিষ্কৃতদের অনেকেই নেতার পরিচয় ও দলীয় পদবি ব্যবহার করে বিতর্ক সৃষ্টি করছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের বহিষ্কৃত নেতা যুবরাজ রাসেল। বিএনপির গত ইউনিয়ন কমিটিতে তাকে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কমিটির দায়িত্ব পালন দূরে থাক সে সব সময় ঢাকাতেই পরে থাকে। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপনে দলের বিরুদ্ধে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নানাবিধ কারণে দল তাকে বহিষ্কার করে। কিন্তু সে দলের সিদ্ধান্তকে অমান্য করে গত ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেইসবুকসহ বিভিন্নস্থানে ফেস্টুন টানিয়েছে। যা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যের শামিল। অনেকটা বিএনপি নেতৃবৃন্দকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো!
এবিষয়ে বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক যুবরাজ রাসেলকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি বিএনপি নেতাদের অনুমতি নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট ও ফেস্টুন টানিয়েছি। কে অনুমতি দিয়েছেন নাম প্রকাশ করতে বললে, তিনি অস্বীকৃতি জানান।
ভিটিকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ নেতৃবৃন্দের প্রশ্ন তাহলে বহিষ্কার করার কি প্রয়োজন? বহিষ্কারের পরও যদি দলীয় পদ পদবি ব্যবহার করে ফেইসবুকে পোস্ট করা যায়, ব্যানার ফেস্টুন টানানো যায়! দলীয় নিয়ম শৃঙ্খলা কই থাকলো? বহিষ্কৃত হওয়ার পর কেউ দলের নাম বা পদ ব্যবহার করলে তার দায়ভার সংগঠন নেয় না এমনটাই জানতাম। কিন্তু এখন হচ্ছে টা কি?
বহিষ্কৃত ও অব্যাহতি পাওয়া নেতারা দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসারে নতুন করে সদস্যপদ নবায়নের সুযোগ পান না।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কৃতকে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পদ ফিরিয়ে দেওয়া হলেই কেবল সে পদ পদবি ব্যবহার করতে পারেন। তার আগে নয়।
তা না হলে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এটি লোক দেখানো হিসেবেও সমালোচিত হয়।
এবিষয়ে তিতাস উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান সেলিম ভূইয়া বলেন, কোন বহিস্কৃত নেতা পদ পদবি ব্যবহারের কোন অনুমতি দেওয়া হয় নি।
তিতাস উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি কাজী কবির হোসেন সেন্টু বলেন, দল থেকে অব্যাহতি কিংবা বহিষ্কার হওয়ার পর পদ পদবি ব্যবহার করার কোন নিয়ম নেই। কেউ করে থাকলে এটা আরেকটা অন্যায় করেছে। যারা দলীয় সিদ্ধান্তকে পুনরায় অমান্য করেছে, তাদের বিষয়ে আরও কঠিন হওয়া উচিত।