চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন চলাকালে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন এক সংবাদকর্মী। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক দৈনিক গণকণ্ঠের বাঁশখালী প্রতিনিধি মোহাম্মদ রফিউল করিম চৌধুরী জানান, গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নির্বাচন চলাকালে মাত্র ১ ঘন্টার পরে ওখানে দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোল দফায় দফায় হট্টগোল, দস্তাদস্তি,টান টান উত্তেজনা,যেকোনো সময় সংঘর্ষের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেখানে ভিডিও ধারণ ও তথ্য সংগ্রহ করছিলেন।
এ সময় হঠাৎ একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী তাকে ঘিরে ফেলে এবং অশালীন আচরণ শুরু করে। তিনি অভিযোগ করেন, যথাযথভাবে তার পরিচয় পত্র দেখালেও এডভোকেট আনিসুল ইসলাম তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন “এখানে সাংবাদিকদের কাজ কী? ভিডিও করা যাবে না। আইনজীবীদের বিষয় সারা দুনিয়ায় দেখাতে চাও?”— এমন কথার একপর্যায়ে মব সৃষ্টি করে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। পরে জোরপূর্বক এডভোকেট মফিজুর রহমান তার ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজসহ গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট মুছে ফেলে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক বলেন, “এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত মর্যাদার ওপর আঘাত নয়; বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং সংবিধানপ্রদত্ত মতপ্রকাশের অধিকারের লঙ্ঘন।”
তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকরা কোনো পক্ষের নয়, তারা সত্যের পক্ষে। বাস্তবতা তুলে ধরাই তাদের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি বারবার হামলা ও বাধার শিকার হতে হয়, তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
ঘটনাস্থলে আইনজীবীদের মতো শিক্ষিত ও সচেতন ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকলেও কেউ কার্যকরভাবে এ ঘটনায় বাধা দেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, আইন পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রশ্নকে আরও জটিল করে তোলে। এ ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীর দাবিসমূহ:
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করা দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।