বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির মানবিক গবেষণা প্ল্যাটফর্ম হার্ভার্ড হিউম্যানিটারিয়ান ইনিশিয়েটিভ–এ প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশের তরুণ গবেষক আবু হাসনাত তুহিনের গবেষণাধর্মী লেখা। তিনি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। তার বাড়ি দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জে।
‘উষ্ণায়নের পৃথিবীতে বাস্তুচ্যুত মানুষ: জলবায়ু উদ্বাস্তু ও মানবাধিকারের নতুন ভাবনা’ শীর্ষক প্রবন্ধটি গত ১৩ মে প্রকাশিত হয়। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুতি, জলবায়ু উদ্বাস্তুদের মানবাধিকার সংকট এবং আন্তর্জাতিক আইনের সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড় ও খরার মতো জলবায়ুজনিত দুর্যোগে প্রতিনিয়ত মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইনে এখনো জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য সুস্পষ্ট কোনো আইনি সুরক্ষা কাঠামো গড়ে ওঠেনি।
এই গবেষণা দলে আরও ছিলেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং হার্ভার্ড হিউম্যানিটারিয়ান ইনিশিয়েটিভের ভিজিটিং সায়েন্টিস্ট হিসেবে কাজ করছেন। দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার, জলবায়ু ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণ নিয়ে গবেষণা করছেন তিনি।
গবেষণা দলের আরেক সদস্য মো. শিহাব উদ্দিন বর্তমানে সেন্টার ফর লোকাল গভর্ন্যান্স ডিসকোর্স–এর সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় সরকার, সামাজিক নীতি ও জলবায়ু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছেন তিনি।
গবেষণাপত্রে লেখকরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, জলবায়ু উদ্বাস্তুদের মানবাধিকার সুরক্ষায় নতুন বৈশ্বিক নীতিমালা প্রণয়ন ও আইনি স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে আবু হাসনাত তুহিন বলেন, ‘হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে আমাদের গবেষণাধর্মী লেখা প্রকাশিত হওয়া আমার জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের। জলবায়ু ঝুঁকি ও বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে পেরে আমি সম্মানিতবোধ করছি। ভবিষ্যতেও মানবাধিকার ও জলবায়ু ন্যায়বিচার নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যেতে চাই।’
বাংলাদেশের এক তরুণ গবেষকের এমন আন্তর্জাতিক অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে প্রশংসা ও গর্বের অনুভূতি তৈরি হয়েছে।