কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা জুড়ে নানা অনিয়ম, অবৈধ কর্মকাণ্ড ও প্রশাসনিক উদাসীনতার অভিযোগ দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটা, ভেকু দিয়ে কৃষিজমি নষ্ট, রাস্তার পাশে সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, খাস জমি দখলসহ একের পর এক অনিয়ম চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, উপজেলার নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান প্রতিকার মিলছে না। এতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—অভিযোগের পরও ব্যবস্থা না নেওয়ার পেছনে রহস্য কী? স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার ও ভেকু ব্যবহার করে কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছে। এতে একদিকে উর্বর জমি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অনেক স্থানে সড়কের পাশে সরকারি জায়গা দখল করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে। ফলে সংকুচিত হচ্ছে সড়ক, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অভিযোগ করলেই কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকে, পরে আবার আগের মতোই শুরু হয়। এতে ধারণা তৈরি হয়েছে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এসব অনিয়ম চলছে। কেউ প্রতিবাদ করলে নানা চাপ ও ভয়ভীতির মুখেও পড়তে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকরাও জানান, বিভিন্ন সময়ে অনিয়মের তথ্য-প্রমাণসহ সংবাদ প্রকাশ ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এতে দুর্নীতিবাজ ও দখলদার চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, একটি উপজেলার উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, অবৈধ ড্রেজার জব্দ, সরকারি জমি উদ্ধার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অভিযোগের স্তূপ বাড়ানোর পরিবর্তে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে দেবিদ্বারে সুশাসন ফিরিয়ে আনবে প্রশাসন।