• মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
চট্রগ্রামের পতেঙ্গায় আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যক্রমসহ মাদক সেবনের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে গাঙ্গিনাপাড়ে জনদুর্ভোগ কমাতে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের অভিযান “বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার পাঠাগার” কেন্দুয়া উপজেলায় একটি আলোর ঘর শহীদ জিয়া আন্তঃস্কুল ফুটবলে জয় পেয়েছে দক্ষিণ হালিশহর-বাকলিয়া-শেরশাহ কলোনী ও ছালেহ জহুর লালপুরে বাড়িতে ঢুকে হামলা, নারীকে মারধর ও স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ কুমিল্লা জেলার সিভিল সার্জনের দৃষ্টি আকর্ষণ,, ওয়েবসাইটে নেই চিকিৎসকদের হালনাগাদ তথ্য: ভোগান্তিতে ব্রাহ্মণপাড়ার রোগীরা কুমিল্লায় এসএসসি ফল পুনঃনিরীক্ষণে ৯১ হাজার আবেদন, হতবাক কর্তৃপক্ষ কুমিল্লা বুড়িচং প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে খোরশেদ সভাপতি, বাবু সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির কিশোরগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় বিএনপি নেতার উপর হামলা ঘিওরে শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে গাছের চারা রোপন করেন ছাত্রদল নেতা।

মাদকের ভয়াল থাবা: আমাদের প্রজন্ম ও ভবিষ্যৎ বাঁচানোর দায়িত্ব সবার

লেখক গুলজার আহমেদ / ৬৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

মাদক আজ শুধু একটি ব্যক্তির সমস্যা নয়, এটি পুরো সমাজ ও দেশের জন্য একটি ভয়ংকর সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদকের কারণে ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে আমাদের তরুণ প্রজন্ম—যারা আগামী দিনের দেশ গড়ার শক্তি। একটি পরিবারে একজন মানুষ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে শুধু সেই মানুষটি নয়, তার পুরো পরিবার মানসিক, সামাজিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মাদকের কোনো দল নেই, কোনো ধর্ম নেই, কোনো শ্রেণি নেই। এটি ধনী-গরিব, শহর-গ্রাম—সব জায়গায় আঘাত করতে পারে। তাই মাদককে কেন্দ্র করে একে অপরকে দোষারোপ না করে দলমত, মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত বিভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কারণ আজ যে সমস্যাটি অন্যের ঘরে দেখা যাচ্ছে, আগামীকাল তা নিজের পরিবারেও ভয়ংকরভাবে আঘাত করতে পারে।

মাদক একজন মানুষের চিন্তাশক্তি, বিবেক, স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দেয়। এটি একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে পারে, একজন কর্মক্ষম মানুষের জীবনকে অন্ধকার করে দিতে পারে, একটি পরিবারের শান্তি কেড়ে নিতে পারে। মাদকের কারণে অপরাধ, সহিংসতা, পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক অবক্ষয়ও বাড়তে পারে।

মাদক কেন আমাদের সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে—তার কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ মাদক প্রবেশ, মাদক ব্যবসায়ীদের তৎপরতা, সচেতনতার অভাব, পারিবারিক নজরদারির ঘাটতি—সব বিষয়েই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তবে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ ও সচেতনতা।

আমাদের সন্তানদের সময় দিতে হবে, তাদের কথা শুনতে হবে, ভালো পরিবেশ তৈরি করতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্র—সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একজন মাদকাসক্ত মানুষকে ঘৃণা নয়, বরং সঠিক চিকিৎসা, সহযোগিতা ও পুনর্বাসনের সুযোগ দিতে হবে, যাতে সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।

মনে রাখতে হবে, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কোনো এক ব্যক্তি বা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের একার কাজ নয়। এটি পুরো জাতির দায়িত্ব। আমাদের আজকের সচেতনতা আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে পারে।

আসুন, আমরা সবাই মিলে মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়াই। একটি সুস্থ, নিরাপদ ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়তে আমাদের প্রত্যেকের ভূমিকা রয়েছে। কারণ একটি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার মানুষ, আর সেই মানুষকে রক্ষা করাই আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

লেখক- সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট: গুলজার আহমেদ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category