পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানাধীন ইসলামপুর, আহসান উল্লাহ রোড ও চায়না মার্কেট এলাকার পরিবহন চালক ও শ্রমিকরা একটি চিহ্নিত চাঁদাবাজ চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, ঢাকা জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি পরিচয় দিয়ে রন্টি ইসলাম জয় নামের এক ব্যক্তি তার পরিবারসহ পুরো এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিগত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে এই এলাকার পরিবহন স্ট্যান্ডগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখেন রন্টি ইসলাম জয়। এই অপকর্মে তার মা এবং বড় ভাই সরাসরি যুক্ত রয়েছেন। তাদের চাহিদা অনুযায়ী চাঁদা না দিলে সাধারণ চালক ও শ্রমিকদের মারধরসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ই আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাতারাতি খোলস বদলে ফেলেছেন স্থানীয়ভাবে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ হিসেবে পরিচিত এই রন্টি। বর্তমান সরকারের আমলেও রাজনৈতিক খোলস পাল্টে বহাল তবিয়তে ইসলামপুর এলাকায় চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। চাঁদাবাজির পাশাপাশি এই চক্রের বিরুদ্ধে এলাকায় ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক কেনাবেচারও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
চক্রটির লাগামহীন অত্যাচার ও হুমকিতে বর্তমানে চরম অসহায় দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ পরিবহন মালিক, চালক ও শ্রমিকরা। এই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের হাত থেকে মুক্তি পেতে তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সাথে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী রন্টি ইসলাম জয় এবং তার পরিবারের সদস্যদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।